এই ৪ টি রহস্যের দরজা যা কখনোই খোলা উচিত নয়

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু জায়গায় এমন কিছু দরজা আছে যার ওপাশটা পুরোপুরি রহস্যে ঘেরা। আর তাই সেসব দরজা কখনোই খোলা উচিত নয়। চলুন জেনে নেই তেমনি ৪ টি রহস্যের দরজা সম্পর্কে।

এই ৪ টি রহস্যের দরজা যা কখনোই খোলা উচিত নয়
এই ৪ টি রহস্যের দরজা যা কখনোই খোলা উচিত নয়


পৃথিবীর প্রতিটি পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে রহস্য। তার মধ্যে রয়েছে কিছু দরজা যা বছরের পর বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কেননা এর কোনোটিকে বলা হয় অভিশপ্ত, কোনোটি খুললে নাকি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধ্বংস হবে দেশ, আবার কোনোটি খুললে নাকি দেখা মিলতে পারে এলিয়েনদের। তেমনি চারটি রহস্যের দরজা সম্পর্কে জানবো আজকের লেখা থেকে, যেগুলো নিয়ে অনেকরকম কথা প্রচলিত আছে যে সেই দরজাগুলো নাকি খোলা উচিত নয়।


পদ্মনাভ স্বামী মন্দির

Sree Padmanabhaswamy Temple

ষষ্ঠ শতকে হিন্দুদের দেবতা বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে ভারতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল পদ্মনাভ স্বামী মন্দির। মন্দিরটি প্রচুর ধন সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। পর্যটকদের ভীর লেগেই থাকে এর স্থাপত্যশৈলী দেখার জন্য। ত্রিভাঙ্কুরের রাজ পরিবার কর্তৃক ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এই মন্দিরটি।


একবার আদালতের আদেশে মন্দিরের সব জিনিসের তালিকা নথিবভুক্ত করার জন্য কমিটি নিযুক্ত করা হয়। তারা ছয়টি বিশাল গোপন সিন্দুক খুঁজে বের করেন। ৫ টি সিন্দুক খুলে সোনার হাতি, গহনা, মনিমুক্তাসহ অনেক মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়।


কিন্তু ৬ নম্বর সিন্দুকের দরজাটি আজও খোলা যায়নি। অথচ দরজাতে কোনো লক বা তালা নেই, শুধু দুটি কোবরার মূর্তি আছে। লোকে বলে টই দরজা খোলার জন্য বিশেষ মন্র রয়েছে। কিন্তু সাপের মূর্তি নিষেধকে চিহ্নিত করে বলে কেউ তা খোলার দুঃসাহস করেনি। তাই এর রহস্য আজও উম্মোচিত হতে পারেনি।


তাজমহল

The Taj Mahal

ভারতের আগ্রায় অবস্থিত তাজমহল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি এবং এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ পৃথিবীর তাবৎ সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ। ১৬৩১ সালে সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রায় ২২ বছর ধরে ২০০০০ শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মিত হয়েছিল এই আকর্ষণীয় স্থাপত্যটি।


তবে এর অনেকগুলো কক্ষে ঢোকার অনুমতি নেই, সেগুলো আজও তালাবদ্ধ। এর আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা তলা দুটিও তালাবদ্ধ থাকে। লোকের মুখে শুনতে পাওয়া যায় ওইসব বন্ধ ঘরের কোনো একটিতে মমতাজের দেহ মমি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি ইসলামবিরোধী বলেই এত গোপনীয়তা করা হয়। একটা ঘর আটকে রাখলে সন্দেহ তৈরি হতে পারে বলে তার সাথে আরও ঘর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এসব দরজা আজও মানুষের কাছে এক রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।


গিজার স্ফিংস এর হল অফ রেকর্ডস

Geezer Sphinx's Hall of Records

মিশরের গিজার স্ফিংস পৃথিবীখ্যাত একটি অদ্ভুত ভাস্কর্য। তবে এর আগাগোড়াতেই পাওয়া যায় রহস্যের গন্ধ। এর ভেতরেই একটি বদ্ধ ঘর আছে ঢ়েটির সম্পর্কে আজ অবধি কেউ সঠিকভাবে কিছু জানতে পারেনি। এখানকার প্রশাসনও দরজা খোলার কাজ বন্ধ রেখেছে। হয়তো তারাও এই রহস্যের উদঘাটন হোক তা চায় না।


অনেক মানুষ মনে করেন যে, মিশরের এই ভাস্কর্যটির নিচেই আছে হল অফ রেকর্ডসের মতো একটি বিশাল লাইব্রেরি। আর সেখানেই পিরামিড বানানোর খুঁটিনাটি তথ্য আছে। কিন্তু মিশরের প্রশাসন এতে প্রবেশ,  খননকাজ সব নিষিদ্ধ করে রেখেছে। তাই এই লাইব্রেরির দরজা খুলে ভেতর অবধি পৌঁছাতে পারেনি কেউই।


বানফ স্পিংস হোটেলের ৮৭৩ নম্বর কক্ষ

Room No. 873 of the Banff Springs Hotel

কানাডার আলবার্ট শহরে অবস্থিত বানফ স্পিংস হোটেলের ৮৭৩ নম্বর কক্ষটি একটি বিস্ময়কর কক্ষ। এ ঘরে দরজার বদলে দেওয়াল দেখা যায়। কিন্তু দেওয়ালের পেছনে রয়েছে গোপন দরজা। তবে কি কারণে এই লুকোচুরি? প্রচলিত কাহিনী থেকে জানা যায় অনেক বছর আগে এখানে এক দম্পতি তাদের সন্তানকে নিয়ে ছুটি কাটাতে আসেন।


কিন্তু ওইদিন রাতেই লোকটি তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন। তিনি এরকম কেন করেছিলেন তা জানা যায়নি। এরপরে নতুন রং করে ঘরটি আবার ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পর্যটকরা নাকি যেখানে সেখানে রক্তমাখা হাতের ছাপ দেখতে পান এবং চিৎকার শুনতে পান।


এরপর ভীত হয়ে লোকেরা ঘর ছেড়ে দেয় এবং দ্রুত এ খবর মানুষের মুখে মুখে রটে যায়। তারপরই হোটেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেন। কিন্তু আজও এক অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে ৮৭৩ নম্বর কক্ষটির দরজার ওপাশে।


এত রহস্য এখনো মানুষের কাছে অজানা এবং কখনো কখনো আতঙ্কেরও কারণ। হয়তো বিজ্ঞানের হাত ধরে অদূর ভবিষ্যতে এসব রহস্য উম্মোচন করা সম্ভব হবে। তার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত আর কোনো পথ নেই।