অতীতকে ভুলে বর্তমানে সুখে থাকার ৪ টি সেরা উপায়

আপনি কি অতীত এর কষ্ট নিয়ে ভাবতে ভাবতে জীবন নিয়ে চিন্তিত? আপনি কি হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও এসব ভাবনা বাদ দিতে পারছেন না? চিন্তা নেই, আজকের পোস্টে পাবেন আপনার অতীত নিয়ে ভাবনার সমস্ত সমাধান। তাই দেরি না করে পড়ে ফেলুন আমাদের সম্পূর্ণ পোস্টম

অতীতকে ভুলে বর্তমানে সুখে থাকার ৪ টি সেরা উপায়
অতীতকে ভুলে বর্তমানে সুখে থাকার ৪ টি সেরা উপায়


মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, যেনো একই কয়েনের দুই পিঠের মতো। একটি আসলে, আরেকটিও আসতে বাধ্য। যেমন, দুঃখের পরেই সুখের আগমন, আর সুখের পরেই আবার আসে দুঃখ। তাই বোঝাই যাচ্ছে, সুখ দুঃখ হচ্ছে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিষয়টি যেমন চিরন্তন সত্য, তেমনি মানুষের অতীতে বিভিন্ন স্মৃতি থাকাও খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।


মানুষের যেমন অতীতে সুখের স্মৃতি থাকে, ঠিক তেমনি দুঃখের স্মৃতিও থাকে। সুখের স্মৃতির কথা ভাবলে মানুষ ভাল থাকে, সময় ভালো কাটে। ঠিক বিপরীতভাবে, খারাপ অতীতের কথা ভাবলে মানুষের মন খারাপ হয়ে যায়, হতাশ হয়ে পড়ে ও কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়।


আর যদি কেউ সবসময়ই তার পুরনো অতীতের খারাপ কথাগুলো সম্বন্ধে ভাবতে থাকে, তাহলে তার জীবন খুবই দুর্বিসহ হয়ে পড়ে এবং সে মানসিকভাবে অশান্তিতে ভুগতে থাকে। তাই কোনো মানুষেরই উচিত নয় পুরনো অতীতের কথা ভেবে নিজের সময় নষ্ট করার। তবে অনেক সময় মানুষ চাইলেও এসব কথা ভাবা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেনা, ব্যর্থ হয়। তাই আজ আমি আপনাদের সামনে এমন কিছু উপায় নিয়ে এসেছি, যাতে আপনারা আপনাদের পুরনো অতীত সম্বন্ধে ভুলে, বর্তমানে খুশিতে থাকতে পারবেন। 


খুশিতে থাকতে কে না চায়, সবাই চায় ভালো থাকতে ও ইতিবাচক ভাবতে। আমিও তাই চাই, তাই আপনাদের সমস্যার সমাধান নিয়েই আজ আলোচনা করবো। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে, মূল আলোচনা শুরু করা যাক।


অতীতকে ভুলে বর্তমানে সুখে থাকার নিয়মাবলী:


১. অতীত নিয়ে ভাবার সময় চিহ্নিত করুন ও বিরত থাকুন

অতীত নিয়ে ভাবা সম্বন্ধে বিরত থাকার জন্য আপনাকে প্রথমত যেটা করতে হবে তা হলো, আপনাকে বুঝতে হবে যে কোন সময়ে আপনি এসব ভাবনায় মগ্ন হয়ে পড়ছেন। যদি আপনি এটা বের করতে পারেন, তাহলে আপনার পক্ষে এসব চিন্তা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।


যেমন- ধরুন, মানুষ বেশি চিন্তা ভাবনা করে থাকে, কাজের ফাকে, গোসলের সময়ে, খাওয়ার সময়ে, অবসর সময়ে এবং ঘুমানোর সময়ে। তো আপনি যদি এই সময়গুলো বাছাই করতে পারেন এবং নিজেকে বারবার মনে করাতে পারেন, যে আমি অতীত নিয়ে ভাববো না, এরকম একটা পণ করতে পারেন, তাহলে ধীরে ধীরে আপনার ভাবনা কমে আসবে এবং আপনি একসময় আপনার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। তাই এখন থেকেই এই কাজটি শুরু করে দিন যদি আপনি ভালো থাকতে চান। 


আরও পড়ুন: ঘরের বাইরে নারীদের নিরাপদে থাকার কিছু আবশ্যকীয় টিপস


২. অতীত নিয়ে চিন্তার কুফল সম্বন্ধে ভাবুন

একজন মানুষ হিসাবে আপনাকে সবসময় ভাবতে হবে যে, অতীত নিয়ে ভাবলে, আপনার কোনো লাভ হবেনা। অতীত এর কষ্ট নিয়ে ভাবলে মন খারাপ হয়, হতাশার সৃষ্টি হয়, সময় নষ্ট হয় এবং বর্তমান কাজের গতি বিকৃত হয়।


আপনি যদি এসব কথাগুলো ভালোভাবে বিবেচনা করেন, তাহলে ভালোভাবেই বুঝে যাবেন যে, অতীত নিয়ে ভেবে আসলে কোনোই লাভ নেই। বরং অতীত এর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে উচিত বর্তমানে নিজেকে শুধরে নেয়া ও নতুন করে জীবন শুরু করার। আপনি যখন এসব কথাগুলো মাথায় ঢোকাবেন, তখন আপনার সমস্যার সমাধান হবে এবং আপনি শান্তিতে থাকতে পারবেন। 


৩. নিজের জীবন সম্বন্ধে চিন্তা করার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন

একজন সচেতন মানুষ হিসাবে সবারই উচিত নিজের জীবন সম্বন্ধে প্রতিনিয়ত একটি নির্দিষ্ট সময় চিন্তাভাবনা করা। কার‍ণ একেবারে চিন্তাহীন থাকাও আবার আপনার জীবনের জন্য ভালো ফলদায়ক হবেনা। তাই, নিয়ম করে নিজের জীবন সম্বন্ধে ভাবনা চিন্তা করুন।


হতে পারে এটা আপনার লাঞ্চ ব্রেকে, বা হতে পারে ঘুমানোর সময়ে। এছাড়াও আপনি চাইলে নির্দিষ্ট সময়ও এর জন্য নির্ধারণ করতে পারেন। যেমন ধরুন ১০ মিনিট বা ২০ মিনিট। এটা সম্পূর্ণই আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।


আপনি যখন নির্দিষ্ট সময়, স্থান ঠিক করবেন নিজের জীবন সম্বন্ধে ভাবার, তখন আপনি চাইলেও অন্য কোনো সময়ে এসব নিয়ে ভাবতে পারবেন না, যদি আপনি একজন সচেতন মানুষ হয়ে থাকেন। তাই আপনি যেটুকু চিন্তাভাবনা বা বিশ্লেষণ নিজেকে নিয়ে করতে চান, তার জন্য অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। এতে আপনার জীবন ভাল ও সুখের কাটবে। 


আরও পড়ুন: ঘরোয়া কাজ আরও দ্রুত ও সহজে করার কিছু দারুন টিপস


৪. নিজের মনের কথা সবসময় কাউকে শেয়ার করুন

নিজের জীবন সম্বন্ধে অযথা চিন্তা করে ভাল থাকার অন্যতম ভালো উপায় হল, নিজের কথা কোনো কাছের মানুষের সাথে শেয়ার করা। মনে রাখবেন, কাছের কাউকে নিজের কষ্টের কথা শেয়ার করলে, ব্যথা অনেকটাই উপশম হয়।


এটি একটি চরম বাস্তব কথা। আপনি যখন উপরের নিয়মগুলো অনুসরণ করতে কখন্য ব্যর্থ হবেন, তখন শেষ আপনি এই কাজটি করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, অবশ্যই নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষের কাছে কথাগুলো শেয়ার করতে পারেন।


নইলে খারাপ কাউকে শেয়ার করলে হয়তো সে এগুলো নিয়ে মজা করতে পারে বা খারাপভাবে নিতে পারে, যা আপনাকে আরও কষ্ট দিতে পারে। তাই অবশ্যই কথাগুলো শেয়ার করার জন্য মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী, বা বন্ধু এমন কাউকে বাছাই করুন। এতে দেখবেন, আপনার মনের ব্যথা ও চিন্তা অনেকটাই কমে গেছে।


আপনি চাইলে এগুলো বলার সময় কাদতেও পারেন। এতে চোখের পানির সাথে আপনার দুশ্চিন্তাগুলোও অনেকটা দূর হয়ে যাবে এবং আপনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। 


আরও পড়ুন: ঘরে বসে স্মার্টফোন দিয়েই উপার্জন করুন মাসিক ১৫০০০-২০০০০ টাকা ,দেখুন কিভাবে


উপসংহার

সুপ্রিয় পাঠকগণ, এই ছিলো অতীতকে ভুলে বর্তমানে সুখে থাকার টিপস নিয়ে আমাদের আজকের পোস্ট। আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনাদের আজকের পোস্ট সম্বন্ধে যেকোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে আমাদের জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে। আমরা চেষ্টা করবো আপনাদের উত্তর দ্রুত দেয়ার জন্য। 


আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টে নতুন তথ্য নিয়ে। ততক্ষণ অব্দি সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। সবাইকে শুভকামনা জানিয়ে আজকের মতো শেষ করছি!